কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৩

নৈঃশব্দের আগে

 



নৈঃশব্দের আগে

-শুভাশিস ঘোষাল


যদি ভুলে যাও ---

সেই মোমগলা সন্ধ্যা 

কুয়াশায় মোড়া রাত,

নিবিড় নিগড়ে বাঁধা 

হাতের উপরে হাত,

যদি ভুলে যাও।


যদি দূরে যাও ---

ঋতুমতী নদীতীরে 

খেয়াঘাট পারাপার

শেষ ট্রেন গেছে চলে 

পৌরাণিক অন্ধকার,

যদি দূরে যাও।


যদি রয়ে যাও ---

বারুদের বিষণ্ণ গন্ধে 

নোনাধরা দেওয়ালে 

বোমাত্রস্ত শিবিরে 

এই বিবর্ণ বিকেলে,

যদি রয়ে যাও।


জানি, আমি তবু জানি 

রথচক্র গ্রাস করিবে মেদিনী,

ঝরে যাবে পাতা, আকিঞ্চন।

তবু সেই নৈঃশব্দের আগে

গোধুলির শেষ অস্তরাগে

একবার উষ্ণ আলিঙ্গন, 

--- যদি রয়ে যাও। 


-----------------------


প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ২০২৩, 'ছাতিম' ট্রায়ঙ্গেল বেংগলি এসোসিয়েশনের শারদীয়া সংখ্যা।


রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

অবগাহন

 অবগাহন

-শুভাশিস ঘোষাল




জানি, থাকা যায়

আরও কিছু ক্ষণ নিরালায়

কবোষ্ণ জলে,

আরও কিছু ক্ষণ ছোঁয়া যায়

ঠোঁট, রাঙা কামনায়

পয়োধর তলে;

নিঃশ্বাসের গলানো ইস্পাত

দুর্মর ফেলা যায়

তূর্ণ গতি বলে।

তবুও এখনই সময়

ধারাস্নান সেরে ---

শিশিরে সম্পৃক্ত মাটি

পাতার পথ ধরে,

কৌমুদীরাতে কিংবা

গাঢ় তমিস্রায়,

পথ খুঁজে নিতে তারার

তৃষিত আলোয়।

বুটের নির্মম শব্দ আর

সাইরেনের তীক্ষ্ণ চিৎকার ;

অসউইজ থেকে আসা

মৃতদের মিছিলের ভাষা

শুনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ---

বেয়নেট যদি ফেঁড়ে দেয়

তোমার আমার

হৃদপিন্ড আবার,

তবু মুখে মুখে ছড়াবে 

নিষিদ্ধ ইস্তেহার। 


----------
প্রথম প্রকাশিত ঃ অক্টোবর ২০২০,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন


কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মন্বন্তরের শেষে


মন্বন্তরের  শেষে

-শুভাশিস ঘোষাল

লাঙ্গল পড়েনি মাঠে কতকাল
নিড়োনো হয়নি ঝোপ আগাছা,
কতদিন ফলেনি ধান --- চাল
শেষ কবে হয়ে গেছে বাছা।
ফুরিয়েছে ইঁদুরের ভাঁড়ার
কুড়োনো খুদের সযত্ন সঞ্চয়;
প্লেগ, ক্ষুধা আর রাত্রির আঁধার
বুকফাটা তৃষ্ণায় জীবনের ক্ষয় ---
শস্যহীন অঘ্রাণের মাসে
শিশির লেহন করে যদি তৃষ্ণা মেটে
মহার্ঘ্য শিশির তবু কই আসে
হেমন্তের কুয়াশার পথে পথে হেঁটে?
পৃথিবীর শরীর জুড়ে অজস্র ক্ষত
বয়সিনী রূপজীবিনীর বিবর্ণ মুখের মত,
মিশর-ব্যাবিলন আজ পাথুরে ইতিহাস
তার স্থির হয়ে আসা শ্বাস,
ফুসফুসে গভীর অসুখ;
অ্যামাজন জ্বলে, এক বুক
ক্যান্সার নিয়ে। তবু একদিন
সে আসিবে এক ঈশ্বরীর সাজে
সদ্যোস্নাত কেশরাজি হাওয়ায় উড্ডীন
মদের শীতলতা তার শরীরের ভাঁজে
দেহবৃন্তে ফোঁটা ফোঁটা শিশিরের জল
চুঁয়ে পড়ে জুড়িয়েছে মাঠের ফাটল,
আবার সবুজ ঘাস সময়ের স্রোত বেয়ে
ঘাসফড়িঙের লাফ ডানে আর বাঁয়ে,
নদী আর অরণ্যের গল্প বলা হলে
ঘুমায়ে পড়িব ভিড় আকাশের তলে। 


----------

প্রথম প্রকাশিত ঃ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন

কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 




শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

প্রেম, অপ্রেম, নষ্টপ্রেমের পদ্য

প্রেম, অপ্রেম, নষ্টপ্রেমের পদ্য

-শুভাশিস ঘোষাল


                                 প্রেম ।।




চল, ওই খোলা মাঠে
চিৎ হয়ে শুয়ে গুনি
আকাশের তারা, কতজন ভীরু
লাজুক শরীর ঢাকে
এই ফাল্গুনের জ্যোৎস্নায়,
শিয়রে চঞ্চল মেঘ
কতদূর ওড়ে।
দেখ, ওই ধূসর পাহাড়ের বুকে
সবুজ ঘাসের পান্ডুলিপি।
সেই ঘাসে বসি তবে
যখন সন্ধ্যা নামে শান্ত সমারোহে;
শাল-মহুলের পাতা কুড়িয়ে
ঘরে ফেরে গাঁয়ের মেয়েরা,
লালপেড়ে সাদা শাড়ি
শঙ্খমালার মতো পাকদন্ডী পথে।
অথবা সাগরের পাড়ে বসে
ঢেউ গুনে গুনে যাই পড়ন্ত বিকেলে।
কিংবা দোতলা বাসে লন্ডন,
ডাবলিন হোক বা কলকাতার পথে ---
একমুঠো রোদ্দুর মেখে নিয়ে গায়,
কোনও এক কাফেতে মুখোমুখি বসে
সময় কাটাবো তবে অলস সন্ধ্যায়।
মোট কথা, যাই হোক, যেখানেই হোক,
তোর সাথে কাটাব অনেকটা সময়
অকারণ  ---  অবকাশ ঠিক খুঁজে নেব,
দুদন্ড থাকিস যদি পাশে।


                           অপ্রেম ।।



ভাল লাগে না এই নিস্তরঙ্গ জীবন
শুধু সুখ অনুভূতি, শুধু ভালোলাগা,
শুধু প্রেম, নৈঃশব্দ, নক্ষত্রের তলে ---
ঢেউ গুনে গুনে চলে গিয়েছে প্রহর;
কতদিন সাগরের জল, বৃথাই উদ্বেল হয়
চাঁদের শরীরের টানে। ভুলে গেছি কতদিন
নীল অবসরে, কলিঙ্গযুদ্ধ আজও হয় নি তো শেষ;
এখনও রক্তনদী কুরুবর্ষ থেকে, সৌপ্তিকপর্বে
কিংবা প্রকাশ্য দিনে --- অনন্ত বৃষ্টির মতো
বোমা ঝরে, সাম্রাজ্যের নিত্য প্রয়োজনে।
কবে যেন শুনেছি শ্রাবস্তীর পথে
সেই বার্তা --- কথা ছিল নিয়ে যাব
দূর দেশে, মহেন্দ্রর সাথে ---
তারপর বহুদিন কেটে গেছে বিশ্রম্ভালাপে
বয়স গিয়েছে বেড়ে পৃথিবীরও ঢের।
তবু, দেখা যাক, একবার
পৃথিবীর পথে হেঁটে;
কতদূর অন্ধকার গলি বা প্রাসাদে,
যদি দাও বিদায় এবার।
আর যদি এখনও হাত রাখো হাতে,
তবে যাই দুজনে একসাথে হেঁটে
এই পৃথিবীর পথে, একবার দেখি
পারি নাকি দুজনে কিছু আঁধার সরাতে
এই ফাল্গুনের জ্যোৎস্নার আলোতে।


                           নষ্টপ্রেম ।।



কথা ছিল ওই নীলপাহাড়ের গায়ে
অথবা লালমাটির দেশে জঙ্গলের পথে
কিংবা জলা-ডোবার দেশে পানাপুকুরের পাশে
বা হয়তো নিতান্তই সাদামাটা মফঃস্বল শহরে
কোথাও একটু হবে নিজের সংসার
একটা ছোট্ট কুঁড়ে
বা ভাড়া নেওয়া এককামরা ঘরে
ভালোলাগার মানুষটার সাথে;
ভাত বেড়ে দেবে তাকে মেয়েলি হাতে,
সারাদিন শ্রম শেষে রাতের প্রণয়
জীবনের নিত্য ওঠাপড়া
ভাগ করে নেবে সেই একচিলতে ঘরে,
স্তন্য দেবে শিশুদের মুখে
রোদ্দুরে খেলবে ওরা উঠোনের কাছে।
সেসব স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন রয়ে যায়,
কখনও যুদ্ধ, কখনও মন্বন্তরে
উৎখাত ভিটে থেকে --- উদ্বাস্তু শিবিরে
সেখানে প্রতিদিন মৃত্যু মাংসলোলুপ হাতে।
অথবা হয়তো ভুল লোকে ভালোবেসে
আড়কাঠি হাত ঘুরে বিকিয়েছে বহুবার;
কতবার মরে গেল অপমানে লজ্জায় ---
শেষমেশ কাল রাতে ফাল্গুনের জ্যোৎস্নায়,
রূপোলি স্বপ্ন যখন পৃথিবীতে ঝরে
শেষবার মরে গেছে অন্ধকার বিছানায়,
আধ-খাওয়া খাবার পড়ে, মাছি ওড়ে।


----------
প্রথম প্রকাশ, ভ্যালেনটাইন ডে ২০১৯, ফেসবুক

কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 



শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

বধির সময়ের বাতিল কবিতা




বধির সময়ের বাতিল কবিতা  

-শুভাশিস ঘোষাল  

কেউ দিয়েছিল পুজো  
স্নান সেরে গঙ্গাজলে
কে পেয়েছিল সুখ
রেস্তোরাঁ শপিংমলে।
ওরা তো বেশ ভালই আছে
সুখী মানুষ নিজের কাছে,
আমি তবে কিসের টানে
কৃষ্ণচুড়া, শালিখ খুঁজি?
জ্যোৎস্না-আলো অন্ধকারে
শিশির ভেজা ঘাসের পরে
নকশি-কাঁথায় কথার মানে
তোর আমার মনকে বুঝি?
মনে পড়ে ছেলেবেলায়
মাঠ পেরিয়ে বটের তলে
কি আনন্দ বৃষ্টি ভেজায়
কুয়োর মিষ্টি ঠান্ডা জলে?
নাহয় অমন থাকত সময়
রাখতি বেঁধে বেণীর সাথে
পাখির মতো ভিজত হৃদয়
আলতো ঠোঁট ছুঁইয়ে হাতে।
খুকির পায়ের রঙ্গিন জুতো
(নাহয়) মেলায় কেনা শস্তা হতো।
ইচ্ছেগুলো মেঘের মতন
সৃষ্টিছাড়া হোক না কেন?
বৃষ্টি হয়ে পড়ুক ঝরে
যখন তখন ফুলের পরে
ঘুমের দেশে সুখের স্বপন
পরীর বলা গল্প যেন। 



------

প্রথম প্রকাশিত ঃ অক্টোবর ২০১৮,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন


কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ঘোড়দৌড়





ঘোড়দৌড়

-শুভাশিস ঘোষাল 


জিন রেকাবেতে বাঁধা গতিজাড্য 
বন্ধক আছে শুধু চাহিদার কাছে
অনেক লগ্নির, সম্ভাবনা হিসেব করে
স্টার্টারের ইঙ্গিতে ছুটে যাবে
সব শক্তি জড়ো করে ক্ষুরে
পরের পর প্রতিদ্বন্দ্বী ছেড়ে
এক দৌড় থেকে আরেক দৌড়ে
এনে দেবে সবচেয়ে বিরল সম্মান
সফল জীবন রূপকথা ছুঁয়ে,
তবু ---
বৃত্তাকার পথে ছুটে ক্ষয়েছে জীবন
নিভে আসা নক্ষত্রের মতো
আলো দিতে দিতে
ডুবে যায় অনন্ত আঁধারে ,
ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের ভারে
প্রতিশ্রুতি শেষ হয় ভাগাড়ের পথে
ঘাড় গুঁজে মেনে নেওয়া
আশ্চর্য ব্যত্যয়

ছিল না কি সাধ?
তবু
একদিন ছুটে যাবে, 
সবকিছু ছিঁড়ে খুঁড়ে নিজের নিয়মে ---
অন্তহীন স্তেপ 
আর প্রেয়ারির বুকে
যেখানে সবুজ ঘাস ভিজে থাকে
রাতের শিশিরে,
যেখানে হলুদ লাল মেপলের পাতা
ঝরে পড়ে
কার্তিকের হিমেল বাতাসে
ছোটো ঝোরাটির মিঠে জলে
মিটিবে আকণ্ঠ তৃষ্ণা,
দুজনে মুখোমুখি নতুন পরিচয়ে
বুক ভরে টেনে নেবে ভোরের বাতাস
সমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনে
ক্ষণিকের বর্ষণ শেষ হলে
ভালোলাগা থেকে যাবে 
আদরের রামধনু হয়ে,
দুরঙ্গা প্রজাপতি
উড়ে যাবে শিরিষের ডালে,
তারপর কুয়াশায় ইচ্ছেমতো দৌড়
অনাবিল আনন্দ উচ্ছ্বাসে

সন্ধ্যার স্থবির সূর্য হ্রদের স্থির জলে
যখন ম্লান হয়ে আসে প্রতীক্ষায়
একা একা হেঁটে হেঁটে জলের উপরে
চিনে নেবে নিজেরই হৃদয়ের ছবি,
তারপর শুধু কথা বাতাসের সাথে
তার ঘুমপাড়ানি গানে,
মরে যাওয়া চাঁদের শরীর কাছে টানে
পৃথিবীতে নিঃশব্দ শান্তি
শুধু জোনাকিরা ঝিকিমিকি জ্বলে


------

প্রথম প্রকাশিত ঃ অক্টোবর ২০১৭,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন

কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 

সূর্যতৃষ্ণা



সূর্যতৃষ্ণা

-শুভাশিস ঘোষাল


পৌষালি ধান কাটা হয়ে গেছে কবে 
যখন ভরেছে জমাখরচের পাতা, 
গাছের কোটরে প্রতীক্ষারত পেঁচা 
মেঠো ইঁদুরের অমোঘ বাস্তবতা। 

নদীর বাঁকে রূপকথা নেই আর 
বাজারে দেদার বিকিয়েছে শস্তায়, 
জীয়নকাঠির মেয়াদ তো শেষ কবেই 
বেহুলার ভেলা শুধু শব লয়ে যায়। 

দলছুট কাক তবু খড়কুটো খোঁজে 
বাসা বেঁধে নেবে নীল ঝর্ণার পাশে, 
কুয়াশার গ্রাম বিনম্র প্রতিবেশী 
পাতাঝরা বন সোনালি নদীর দেশে। 

শিশিরে তবুও ভারী হয়েছিল রাত --- 
ছেঁড়া মেঘে তাও চাঁদের স্বপন ফেরি, 
সাপের বিবরে সঞ্চিত শীতঘুম 
চুরি করে নিয়ে অমরায় দেবে পাড়ি। 

সময়ের সাথে বেপরোয়া রাজপথে 
সাঁজোয়া কামান ছুটেছে প্রতি ক্ষণে, 
সময় হারিয়ে খুঁজেছে নিরুদ্দেশে 
অমরাবতীর মাইলফলক গুনে। 

পৌষালি ধান জমা হয়ে গেছে ঘরে 
এখন শুধুই বাসনা বেচার দিন, 
চিল খুঁজে নেয় রূপালি মাছের ঘ্রাণ 
মিটিয়ে ফেলবে বাস্তবতার ঋণ। 


------

প্রথম প্রকাশিত ঃ অক্টোবর ২০১৬,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন

কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল 


অলীক






অলীক

-শুভাশিস ঘোষাল


ধরা যাক কোনো এক সুন্দর সকালে 
বৃষ্টি এসে মুছে ফেলে বারুদের ঘ্রাণ, 
আকাশে ছড়ানো বিষ আর ঘৃণার অক্ষর --- 
বুকের ভিতর সযত্নে লালন করা 
ইতিহাস, ধর্মগ্রন্থ, সংবিধান যা শিখিয়েছে 
বহুদিন ধরে অস্ত্রের আওয়াজ ফিকে হয় 
চুপ করে শোনে সে বাতাসের কথোপকথন
থেমে যায় যন্ত্রের নিঃশ্বাস, পৃথিবীর উষ্ণায়ণ
মৃত অরণ্যেরা ফিরে আসে দলে দলে 
বিলুপ্ত প্রজাতি আর প্রজাপতি নানা রঙে। 
তখন সাগরবেলায় ঝিনুকের ফাঁক দিয়ে 
ভেনাস উঠে আসে বতিচেল্লির ক্যানভাসে, 
বিকেলের নরম মিঠে রোদে শরীরে শরীর ছুঁয়ে 
অব্যক্ত প্রতিজ্ঞায়। তারপর বহুদিন কেটে যায় 
বসন্ত বিলাসে, পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে। 


------

প্রথম প্রকাশিত ঃ অক্টোবর ২০১৫,  দিগন্ত
বেঙ্গলি এসোসিয়েসন অফ নর্থ ক্যারোলাইনার শারদ ম্যাগাজিন

কপিরাইটঃ শুভাশিস ঘোষাল